কোম্পানি প্রতিনিধির ভুল পরামর্শে নষ্ট ১৬ লাখ টাকার টমেটো ক্ষেত, হাসপাতালে কৃষক

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

কয়েক সপ্তাহ পরই গাছে গাছে ঝুলবে টমেটো। সেই টমেটো বিক্রি করে শোধ করবেন ঋণের টাকা, ফিরবে সংসারে সচ্ছলতা, এমন স্বপ্নই দেখছিলেন প্রান্তিক কৃষক গিরিধন সরকার। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

টমেটো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে ওষুধ প্রয়োগের পরই সাদা হয়ে যায় গাছগুলো। ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় পুরো ক্ষেত। ২৫০ শতক জমির টমেটো চাষে এখন উল্টো প্রায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। আর চোখের সামনে নিজের স্বপ্নের ক্ষেত নষ্ট হতে দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন গিরিধন। অসুস্থ হয়ে বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পরিবারের অভিযোগ, কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধির পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে প্রয়োগ করেছিলেন গিরিধন। কিন্তু সেই ওষুধ প্রয়োগের পরই টমেটো গাছের এমন ক্ষতি হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর টমেটো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে ওষুধ কিনতে মাধবপুর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডারে যান গিরিধন। সেখানে অটোকেমিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ কেনেন তিনি। পরে সেই ওষুধ জমিতে স্প্রে করেন। এরপরই টমেটো গাছ সাদা হয়ে যেতে শুরু করে। অনেক গাছের গোঁড়ায় পচন ধরে। একপর্যায়ে পুরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কৃষক পরিবারের দাবি, ভুল ওষুধের পরামর্শের কারণেই তাদের এই সর্বনাশ হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গিরিধন সরকারের ভাই সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়ধন সরকার এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও আইনি ব্যবস্থা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে কীভাবে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে সহযোগিতা করা যায়, সেটিও দেখা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষক কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক জমিতে প্রয়োগ করায় টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকও ওষুধের বোতল যাচাই না করেই প্রয়োগ করার কথা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিক্রেতাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জমিতে ওষুধ প্রয়োগের আগে কৃষকদের লেবেল ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। যেকোনো প্রয়োজনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত। কৃষকদের কৃষিবিষয়ক পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর