এলপিজি নিয়ে কারসাজি ঠেকাতে চট্টগ্রামে কঠোর নজরদারি, মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালত

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

চাহিদা স্বাভাবিক, তবু এলপিজির বাজারে কৃত্রিম সংকট কিংবা অতিরিক্ত দাম আদায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অবৈধ মজুতদারি, সরবরাহে কারসাজি ও মূল্য নৈরাজ্য ঠেকাতে চট্টগ্রামে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় নজরদারি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করে গঠন করা হয়েছে তদারকি কমিটি। নির্ধারিত দামের বাইরে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে প্রশাসন। কোনো পর্যায়ে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত দাম আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দেশের এলপিজি আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের ২১টি মাদার প্ল্যান্টের মধ্যে সাতটি চট্টগ্রামে, বাকি ১৪টি মোংলায়। চট্টগ্রামের প্ল্যান্টগুলোতে কোন প্রতিষ্ঠান কত পরিমাণ এলপিজি আমদানি করছে এবং সেই গ্যাস কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে তদারকি কমিটি। আমদানির পর কতটুকু গ্যাস পরিবেশকদের কাছে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে কতটুকু খুচরা বাজারে পৌঁছাচ্ছে, সে তথ্যও নিয়মিত সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে।

এলপিজির দাম বাড়ার পর অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ঠেকাতে বাজার তদারকিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে। নতুন দাম কার্যকরের পর বিক্রেতারা নির্ধারিত মূল্যের বাইরে টাকা নিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিলারদের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, দাম বাড়ানোর আগে চট্টগ্রামের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, কিছু ডিলার কারসাজির মাধ্যমে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছেন। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ না থাকলেও তদারকি অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলপিজি আমদানিতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১ শতাংশ। বাকি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে প্রায় ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি ও সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও এর সুযোগ নিয়ে যাতে কোনো পক্ষ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে জেলা প্রশাসন। অবৈধ মজুতদারি, মূল্য কারসাজি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রতিরোধে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন