গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর শহরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ একাই ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে জমির একাংশের মালিক মুনছুর আলীর বিরুদ্ধে। ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জমির প্রকৃত মালিকানা ও অংশীদারদের আপত্তি উপেক্ষা করে তাকে এ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক।
অভিযোগকারীদের দাবি, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজার সাবেক ৭৯ ও ৮০ নম্বর দাগ, বর্তমান ৮৩১ নম্বর দাগের অধিগ্রহণ করা ০.০৯৪৮ একর জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মুনছুর আলী এ টাকা উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় সাসেক প্রকল্প-২ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আপত্তি, অন্য অংশীদারদের আপত্তি এবং আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী রেখা বেগমসহ অন্যরা জানান, জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তারা তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরেজমিনে জমির অবস্থান ও মালিকানা যাচাই না করেই ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
জমির দলিল ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগকারীরা জানান, নুনিয়াগাড়ী মৌজার এসএ খতিয়ান ১৬ ও আরএস খতিয়ান ২৫-এর অন্তর্ভুক্ত জমির মূল মালিক ছিলেন মুনছুর আলীর বাবা মোফাজ্জল হোসেন। ১৯৫৩ সালের ২১ জানুয়ারি করা ৪২৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি মোট ১২৭ শতাংশ জমির মালিক হন। পরে ১৯৬৯ সালে ৩২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে সড়ক বিভাগ। এতে তার অবশিষ্ট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৫ শতাংশ।
২০০২ সালে মোফাজ্জল হোসেন তার ছোট ছেলে আল মামুনকে ৩৯ শতাংশ, স্ত্রী হালিমা বেগমকে ৩ শতাংশ এবং দুই মেয়ে রোকেয়া বেগম ও শাহিনা পারভীনকে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ জমি দেন। এতে মোট ৫২ শতাংশ জমি হস্তান্তরের পর তার নামে অবশিষ্ট থাকে ৪৩ শতাংশ।
অবশিষ্ট ৪৩ শতাংশ জমির পরিবর্তে মোফাজ্জল হোসেনের দুই ছেলে মোকসেদ আলী ও মুনছুর আলী ২০০২ সালের ২৪ মার্চ করা ২১৯৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৭০ শতাংশ জমি নিজেদের নামে দলিল করে নেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মুনছুর আলীর প্রাপ্য জমির পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।
তাদের আরও দাবি, মুনছুর আলী ২০১২ ও ২০১৫ সালে তিনটি দলিলের মাধ্যমে মোট ১৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এতে তার অবশিষ্ট জমির পরিমাণ থাকে সাড়ে ৫ শতাংশ। অথচ তিনি প্রায় ৬ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। এর পাশাপাশি মহাসড়কের প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ জমির অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণও উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এলএমসি মামলা নম্বর ২৭০/২০২৩-২০২৪, এলএ মামলা নম্বর ১১/২০১৯-২০২০ এবং আদালতের রায়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন ও ছাড়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে প্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জালিয়াতির মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
