ফাইনালে ওঠার লড়াই জমে উঠেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে আর মাত্র ১০টি সিরিজ বাকি। আগামীকাল শুরু বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের শেষ টেস্ট। ২০২৭ সালের জুনে লন্ডনের দ্য ওভালে ফাইনালের টিকিট পেতে এখন থেকেই হিসাব মেলাতে হচ্ছে দলগুলোকে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ হার টেবিলের চিত্রে এনেছে নতুন মাত্রা। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা উঠে এসেছে শীর্ষে। অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে শক্ত অবস্থানে। তবে ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সামনে কঠিন সমীকরণ। অন্যদিকে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ।
নিউজিল্যান্ড
ছয় টেস্টে ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। তবে সামনে তাদের কঠিন সূচি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান সফর করতে হবে। বাকি ১০ টেস্টে ৬০ শতাংশ পয়েন্ট পেতে প্রয়োজন ৬৪ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও এক ড্রতেই তা সম্ভব।
তবে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে ঘরের মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি বিদেশেও ভালো করতে হবে কিউইদের।
দক্ষিণ আফ্রিকা
সাত টেস্টে পাঁচ জয় নিয়ে ৭১.৪৩ শতাংশ পয়েন্ট প্রোটিয়াদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের সুবাদে ফাইনালের পথে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে তারা। বাকি সাত টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুটি টেস্ট রয়েছে। এই সিরিজে ভালো করলে ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাকি পাঁচ টেস্টে তিন জয় ও দুই হার পেলেও তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৭১.৪৩ শতাংশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১৩ টেস্টে মাত্র ২৬.৯২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে কার্যত ছিটকে গেছে ক্যারিবীয়রা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে চলতি সিরিজের শেষ টেস্টটিই এই চক্রে তাদের শেষ ম্যাচ।
টেস্ট র্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে আছে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। নব্বইয়ের দশকে টেস্ট ক্রিকেটে রাজত্ব করা দলটি কখনো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলেনি।
ভারত
১১ টেস্টে ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বেশ চাপে ভারত। বাকি সাত টেস্ট নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাঠে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে।
সাতটিতে জিতলেও সর্বোচ্চ ৭০.৩৭ শতাংশ পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব। ছয় জয় ও এক ড্রতে হবে ৬৬.৬৭ শতাংশ। ফলে সামান্য ভুলের সুযোগও নেই রোহিত শর্মাদের উত্তরসূরিদের সামনে।
ইংল্যান্ড
১৬ টেস্টে সাত জয় ও আট হারে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৩৮.৫৪ শতাংশ। দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ সফরে বাকি পাঁচ টেস্টে সবকটিতে জিতলেও সর্বোচ্চ ৫৩.১৭ শতাংশ পয়েন্ট পাবে তারা। ফলে চলতি চক্রে ফাইনালের স্বপ্ন কার্যত শেষ। এখন তাদের লক্ষ্য পরবর্তী চক্রের প্রস্তুতি। ইংল্যান্ড কখনো টেস্টের রাজদণ্ড জিততে পারেনি
শ্রীলঙ্কা
ছয় টেস্টে মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট শ্রীলঙ্কার। বাকি ছয় টেস্ট পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
সব ম্যাচ জিতলে ৬৬.৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারবে তারা। কিন্তু একটি হারলেই পয়েন্ট নেমে আসবে ৫৮.৩৩ শতাংশে। তাই ফাইনালের দৌড়ে ফিরতে হলে বড় চমক দেখাতে হবে লঙ্কানদের।
অস্ট্রেলিয়া
১৩ টেস্টে ৯ জয় নিয়ে ৬৯.২৩ শতাংশ পয়েন্ট অস্ট্রেলিয়ার। তবে সাম্প্রতিক পাঁচ টেস্টের তিনটিতেই হার তাদের কিছুটা চাপে ফেলেছে। বাকি নয় টেস্টে ৬০ শতাংশ পয়েন্ট নিশ্চিত করতে চার জয় ও এক ড্র প্রয়োজন।
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ভালো করার সুযোগ রয়েছে তাদের।
শেষ সিরিজ ভারতে হওয়ায় আগেই প্রয়োজনীয় পয়েন্ট তুলে রাখতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ
সাত টেস্টে তিন জয়, তিন হার ও এক ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪৭.৬২%। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে হার তাদের সমীকরণ কঠিন করেছে। বাকি পাঁচ টেস্টের তিনটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। সব কটিতে জিতলে সর্বোচ্চ ৬৯.৪৪% পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব। একটি ম্যাচ হারলেই তা নেমে আসবে ৬১.১১%। তাই ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে নিখুঁত ক্রিকেট খেলতে হবে বাংলাদেশকে।
পাকিস্তান
নয় টেস্টে মাত্র দুটি জয়, সাত হার। পয়েন্ট ৪.৬৩ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি চার টেস্ট থাকলেও ফাইনালে ওঠার আশা আগেই শেষ পাকিস্তানের।
টেস্ট র্যাংকিংয়ের নবম স্থানে আছে পাকিস্তান। গত কয়েক বছর তাদের ফর্ম মোটেই ভালো যাচ্ছে না। আগে কখনো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল
খেলেনি দলটি।
