ব্যাট হাতে ফিফটির পর বল হাতে ৬ উইকেট। পাকিস্তানের ২১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাজের নৈপুণ্যের সামনে দাঁড়াতেই পারলো না ইংল্যান্ড। রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারানোর পর এবার তারা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে ৮৭ রানে।
ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল ৩০৩ রানের। টপ অর্ডারের দারুণ ব্যাটিংয়ে একটা সময় ৩ উইকেটে ১৬৫ রান ছিল ইংলিশদের। দুই ওপেনার টম ব্যান্টন আর বেন ডাকেট ৯১ রানের জুটি উপহার দেন। ব্যান্টন ৫৩ বলে ৫৭ আর ডাকেট ৪৬ বলে খেলেন ৪৫ রানের ইনিংস।
একটা সময় ভালোভাবেই রান তাড়া করছিল ইংল্যান্ড। সেখান থেকে আরাফাত মিনহাসের বাঁহাতি স্পিনে ধস নামে তাদের ইনিংসে। ৫০ রানের শেষ ৭ উইকেট হারায় ইংলিশরা। ৩৮.৪ ওভারে অলআউট হয় ২১৫ রানে। আরাফাত মিনহাজ ৪০ রান খরচায় একাই নেন ৬টি উইকেট। একটি রানআউটও করেন। ২ উইকেট পান হারিস রউফ।
৮১ রানের মধ্যে শীর্ষ ৪ ব্যাটার সাজঘরে। বড় বিপদেই পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই বিপদ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় পুঁজি দাঁড় করিয়েছে স্বাগতিকরা। ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০২ রান তুলেছে শাহিন শাহ আফ্রিদির দল। অর্থাৎ জিততে হলে ইংল্যান্ডকে করতে হবে ৩০৩।
রাওয়ালপিন্ডিতে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইংল্যান্ড। প্রথম বলেই আউট ফখর জামান (০)। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবও ৮ রানের বেশি করতে পারেননি।
এরপর বাবর আজম আর সাদ বাইগ হাল ধরার চেষ্টা করেন। উইল জ্যাকসের দুর্দান্ত এক ঘূর্ণিতে বোল্ড হন বাবর আজম, ৫২ বল খেলে করেন ৩৪ রান। সালমানও আগাও করেন মাত্র ১৬। ৮১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।
সেখান থেকে সাদ বাইগকে নিয়ে ৫২ রানের জুটি গড়েন হাসান নেওয়াজ। বাবরের মতো সেট হয়ে আউট হন সাদ বাইগ, ৫৪ বলে ৩৫ করে। হাসান নেওয়াজ এরপর আরাফাত মিনহাজকে নিয়ে গড়েন ৭৮ রানের আরেকটি জুটি। খেলছিলেনও মারকুটে। কিন্তু ৭৪ বলে ৫ চার আর ৪ ছক্কায় ৭৯ রান করে ওভারটনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান হাসান।
এরপর ঝড় তুলে পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দেওয়ার কাজটি করেছেন ফাহিম আশরাফ আর আরাফাত মিনহাজ। ৫৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৫৯ রান করে দুই ওভার বাকি থাকতে ফেরেন আরাফাত। ফাহিম আশরাফও দুই বল পর আউট হয়ে যান ২৬ বলে ৩৯ করে।
শেষ সময়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৫ বলে ১০ আর হারিস রউফ ২ বলে করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪ রান। ৯ উইকেটে ৩০২ রানের সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের সনি বেকার ৩টি এবং গুস এটকিনসন নেন ২টি উইকেট।
