দেশজুড়ে টানা ঝড়-বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকা এবং ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে শিল্পকারখানা ও অফিস-আদালত বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। এক ধাক্কায় বিদ্যুতের চাহিদা নেমে এসেছে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের ঘরে। ফলে জাতীয় গ্রিডে কোনো লোডশেডিং ছাড়াই শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বুধবার (২৭ মে) দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে কোনো লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দৈনিক লোড ও সরবরাহ পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্রিডে যে পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হয়েছে, তার পুরোটাই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় দিনের সর্বোচ্চ চাহিদা বা ‘ডে পিক’-এ বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ৬ হাজার ৩৭২ মেগাওয়াট। সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় এই সময়ে দেশের কোথাও কোনো লোডশেডিং করতে হয়নি।
এর আগে, সকাল ৯টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল মাত্র ৫ হাজার ৫২১ মেগাওয়াট। সকাল ১০টায় তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৭৭ মেগাওয়াটে এবং সকাল ১১টায় চাহিদা হয় ৬ হাজার ৭৭ মেগাওয়াট। প্রতিটি ঘণ্টায় চাহিদার শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতের পরিস্থিতিও ছিল বেশ স্বস্তিদায়ক। রাত ৯টার ‘ইভনিং পিক’-এ সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা যখন ১০ হাজার ৭৭৫ মেগাওয়াট ছিল, তখন সরবরাহ করা হয় ১০ হাজার ৭৭০ মেগাওয়াট। ফলে সারা দেশে মাত্র ৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড হয়, যা কার্যত নগণ্য। পরবর্তী এক ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ রাত ১০টার মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে। অথচ এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, গত ২০ মে রাতে রেকর্ড ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও দেশজুড়ে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছিল।
বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসায় উৎপাদন ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে দিনের বেলায় গ্যাস, কয়লা ও পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র দিয়েই চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করা যাচ্ছে। বুধবার দুপুর ১২টায় সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে ২৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর আগের দিন মঙ্গলবার রোদ বেশি থাকায় সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ৩৬৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠেছিল।
চাহিদা কম থাকায় সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। দিনভর দেশের ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। এমনকি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেও দিনের বেলায় বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন হয়নি।
একই সঙ্গে কমেছে বিদ্যুৎ আমদানির চাপ ও খরচ। গত ২৬ মে দিবাগত রাত ১টায় ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৪২ মেগাওয়াট এবং ভেড়ামারা এইচভিডিসি লাইনের মাধ্যমে ৭৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার সকাল ১০টায় চাহিদা কমে যাওয়ায় আদানি থেকে আমদানি নামিয়ে আনা হয় মাত্র ৪৩৪ মেগাওয়াটে এবং ভেড়ামারা দিয়ে আমদানি কমে দাঁড়ায় ২১১ মেগাওয়াটে। আবহাওয়া এমন থাকলে এবং ঈদের ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই স্বস্তি বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
