ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চে আরেকটি হতাশাজনক রাত পার করল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতালির ক্লাব কোমোর কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে চরম চাপে পড়েছেন ইংলিশ ক্লাবটির প্রধান কোচ মাইকেল ক্যারিক। দলের এমন বিপর্যয়ের পর কোচের কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস। অন্যদিকে, সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যারিক। সব মিলিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এখন অস্থিরতার আবহ, আর ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বুধবার রাতে কোমোর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে শুরু থেকেই দিশেহারা ছিল ইউনাইটেড। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই নিকো পাজের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শুরুতেই গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দিতে ব্যর্থ হয় ক্যারিকের দল। বিরতির পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ৫৭ মিনিটের মধ্যে তাসোস দুভিকাস ও পাজের গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কোমো। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে ইয়াকোবো রামনের গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ে জশুয়া জির্কজির একটি গোল শুধু ইউনাইটেডের পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইংলিশ ক্লাবটিকে। এই পরাজয় ইউনাইটেডের চলতি মৌসুমের সংকটকে আরও গভীর করেছে। ১১ ম্যাচে মাত্র দুটি জয় পেয়েছে দলটি। প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান ১৩তম। এরই মধ্যে কারাবাও কাপ থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী রোববার বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচটি ক্যারিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ক্লাবের ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স, প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা এবং সহমালিক স্যার জিম র্যাটক্লিফ কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের মুখে ক্যারিক জানান, পদ নিয়ে চিন্তা করার সময় এখনো আসেনি। বরং সমর্থকদের হতাশাই তাকে বেশি ভাবাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সমর্থকদের জন্যই আমার খারাপ লাগছে। আমি নিজেও তাদের একজন হয়ে এ খেলা দেখছিলাম, আর যা দেখেছি তাতে মোটেও সন্তুষ্ট নই।’ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্যারিক আরও বলেন, ‘আমি ভীষণ হতাশ, হতাশার চেয়েও বেশি—আমি সত্যিই রাগান্বিত। তবে সামনে এগোতে হবে।’ তার মতে, শুধু কৌশল বা ছক দিয়ে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়; খেলোয়াড়দের আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই দৌড়ানো এবং পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। তবে ম্যাচের কৌশল নিয়ে ক্যারিকের সঙ্গে অধিনায়ক ফার্নান্দেজের মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউনাইটেডের প্রেসিং কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বলেন, প্রতিপক্ষকে ম্যান-টু-ম্যান প্রেস না করার সিদ্ধান্তটি কোচিং স্টাফের। তার মতে, প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা দিলে তারা আত্মবিশ্বাস পায় এবং সহজেই নিজেদের খেলা খেলতে পারে।
ফার্নান্দেজের ভাষায়, ‘কখনো কখনো চাপের মুখে আরও সাহসী হতে হয়। উঁচুতে উঠে প্রেস করতে হবে, প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলতে হবে। ওদের সেন্টারব্যাকও আমার নিজের অর্ধে এসে আমাকে মার্ক করছিল। দল হিসেবেও আমাদের এমনটা করতে হবে, কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি।’
অধিনায়কের এ মন্তব্যের জবাবে ক্যারিক জানান, দ্বিতীয়ার্ধে তারা আংশিকভাবে ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং করলেও সেখান থেকেই একটি গোল হজম করেছেন। তবে কৌশলগত বিতর্কের চেয়েও খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের অভাবকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন তিনি। ম্যাচ শেষে প্রায় ৭০০ ইউনাইটেড সমর্থকের মধ্যে প্রায় ২০০ জন মাঠে থেকে যান। তাদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চান ক্যারিক। হতাশ সমর্থকদের প্রতি তার এই প্রতিক্রিয়া দলের সংকটের গভীরতাই তুলে ধরেছে।
এখন প্রশ্ন, বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি ইউনাইটেড? নাকি কোমোর কাছে এই বড় হার ক্যারিকের বিদায়ের পথ আরও প্রশস্ত করবে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েকদিনেই।
