মেহেদী হাসান
আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শুভ জন্মদিন। বাংলাদেশের রাজনীতি আর মানুষের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ে তাঁর নাম ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আস্থা ও সাহসের এক অনন্য নাম। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশ ও দল যখন চরম সংকটের মুখে পড়ে, তখন তিনি রাজনীতির মাঠে নামেন। আটের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘ ৯ বছর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজপথে লড়াই করেছেন। শত চাপ আর প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কখনো কোনো অন্যায়ের সাথে সমঝোতা করেননি। রাজপথের সেই সাহসী অবস্থানের কারণেই দেশের কোটি মানুষ তাঁকে ভালোবেসে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি দেয়।
১৯৯১ সালে জনগণের বিপুল ভোটে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বড়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে অভাবনীয় পরিবর্তন আনেন। মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। একই সাথে খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক ও মেহনতীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে গেছেন।
রাজনীতির পথচলায় তাঁকে সীমাহীন জুলুম ও নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর বছরের পর বছর বন্দিদশা ভোগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে যাননি। নিজের আরাম-আয়েশের চেয়ে দেশের মানুষের ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্রকে সবসময় প্রাধান্য দিয়েছেন।
ছাত্রসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের কাছে বেগম খালেদা জিয়া এক চিরন্তন প্রেরণার নাম। তিনি শিখিয়েছেন সত্য ও ন্যায়ের পথে কীভাবে অবিচল থাকতে হয়।
দেশনেত্রীর জন্মদিনে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর পূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে তাঁর ত্যাগ আমাদের সবসময় পথ দেখাবে।
লেখক: মেহেদী হাসান
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় কমিটি
