বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ওপর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম)। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সংহতি বজায় রাখতে ১৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
দুই মাসব্যাপী দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণের পর তৈরি করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত নির্বাচনটি ছিল দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য। ইইউ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস বলেন, এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করেছে। তবে পদ্ধতিগত কিছু ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে, যা দূর করতে জাতীয় সনদের আলোকে সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে নির্বাচনের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। ইইউ জানায়, বাংলাদেশের বর্তমান আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) অত্যন্ত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্বাচনী অপরাধ দমনে তদন্ত কমিটির সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া অপপ্রচার রোধে জাতীয় উদ্যোগগুলোও নজর কেড়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছে ইইউ মিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য, যা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব প্রকাশ করে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার অর্থায়ন ও ব্যয়ের তদারকিতে দুর্বলতা থাকায় সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইইউ মিশন তাদের প্রতিবেদনে ছয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে মোট ১৯টি সুপারিশ করেছে। প্রধান সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী আইনের ব্যাপক সংস্কার, প্রচারণার অর্থায়নে কঠোর নিয়ম ও তদারকি নিশ্চিত করা, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা। এছাড়া ভোট গণনার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসিকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইভারস ইজাবস জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্প্রতি সই হওয়া অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ইইউ এই সংস্কার কাজে পাশে থাকবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ইইউ-এর ২২৩ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। এই দলে ইইউ সদস্য দেশগুলো ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি ইইউ মিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।
