মুরাদনগরে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে একমাত্র সরকারি বিদ্যালয়

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগরের ঐতিহ্যবাহী মুরাদনগর ডি.আর. সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে চরম শিক্ষক ও জনবল সংকটে পরিচালিত হচ্ছে। বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক ও কর্মচারীর একাধিক পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, কমছে শিক্ষার মান এবং হতাশ হয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। এছাড়া গণিত বিষয়ে দুটি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। ইংরেজি, ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়েও দুটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন করে শিক্ষক।

শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, বিদ্যালয়টিতে অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, পিয়ন, ঝাড়ুদার ও নাইট গার্ডের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ, সব ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। অস্থায়ীভাবে কিছু কর্মচারী দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের জানালার থাই গ্লাসসহ মূল্যবান সামগ্রী প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সম্পদ রক্ষাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে আগের মতো ভালো ফলাফলও করতে পারছে না বিদ্যালয়টি। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে প্রাইভেট কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, “শিক্ষক ও জনবল সংকটের বিষয়টি আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক ও জনবলের সংকট রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালভাবে আবেদন করলে বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ করা হবে, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”

এলাকাবাসীর দাবি, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর এভাবে শিক্ষক ও জনবল শূন্য থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ না দিলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ আরও অবনতির দিকে যাবে এবং ভবিষ্যতে অভিভাবকরা সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহ হারাবেন।

তাদের ভাষায়, “ঐতিহ্যবাহী মুরাদনগর ডি.আর. সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও কর্মচারী পদায়ন করতে হবে। আর কত বছর অপেক্ষা করলে এই বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক নিয়োগ হবে, এ প্রশ্ন এখন পুরো মুরাদনগরবাসীর।”

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর