যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত সরকারি হোটেল থেকে শতাধিক মানুষকে সরিয়ে সামরিক ব্যারাকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ১১টি হোটেল বন্ধ করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কিছু হোটেল বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৩৫০ জনকে পূর্ব সাসেক্সের ক্রোবরো সামরিক ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে মৌলিক সুবিধা রয়েছে।
এই উদ্যোগটি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতিশ্রুতির অংশ, যেখানে তিনি আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত সব হোটেল বন্ধ করার কথা বলেছেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার আশ্রয়প্রার্থী হোটেলে অবস্থান করছেন, আর ৭০ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন বিকল্প আবাসনে যেমন শেয়ার্ড হাউজিং বা সামরিক স্থাপনায় থাকছেন। সর্বোচ্চ প্রায় ৪০০ হোটেল ব্যবহারের পর এখন সেই সংখ্যা কমে ১৮৫-এ নেমে এসেছে।
সরকারের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে হোটেল ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিপুল ব্যয়ের কারণ হয়। সাম্প্রতিক হোটেল বন্ধের ফলে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সরকার বলছে, যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং বড় আকারের আবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে রিফিউজি কাউন্সিলসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। তাদের মতে, সামরিক ব্যারাক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য উপযুক্ত নয়, বরং এগুলো ব্যয়বহুল এবং মানুষকে স্থানীয় সমাজ ও প্রয়োজনীয় সেবাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে। তারা বিকল্প হিসেবে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে, আশ্রয়প্রার্থী ইস্যুতে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সহিংস ঘটনাও ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
