৭ নভেম্বরের চেতনাই ছিল জুলাই বিপ্লবের অন্তর্নিহিত শক্তি: রিজভী

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ এএম

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের চেতনাই ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্তর্নিহিত শক্তি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার সাহসী প্রতিরোধের মুখে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। জুলাই বিপ্লবের অন্তর্নিহিত শক্তিই ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। তাই এখনো সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের গুরুত্ব অপরিসীম।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীনতা রক্ষা এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে সৈনিক-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের তাৎপর্য জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর তৎকালীন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে জাতীয় স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছিল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করে গঠন করা হয় একমাত্র রাজনৈতিক দল বাকশাল। একই সঙ্গে ভিন্নমতাবলম্বী সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করায় দেশে অশান্তি ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মাতৃভূমির এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর চক্রান্তকারীরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে। শ্বাসরুদ্ধকর সেই পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর স্বাধীনতা রক্ষায় অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সৈনিক ও সাধারণ জনগণ রাজপথে নেমে আসেন। সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক সংহতির মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।

তিনি বলেন, এই পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করে। গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হয় এবং জনগণ নাগরিক স্বাধীনতা ফিরে পায়। ৭ নভেম্বর থেকেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। দেশে উৎপাদন ও সমৃদ্ধির প্রবাহ শুরু হয় এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতির ভিত্তি রচিত হয়। দেশ স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।

জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিদেশি শক্তির এদেশীয় অনুচররা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে বাধা মনে করে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। জিয়া শাহাদাত বরণ করলেও তার আদর্শে বলীয়ান মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখনো দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

বাণীতে গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্মমভাবে ব্যবহার করেছে। গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছিল। সরকারের নিষ্ঠুর নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় লক্ষ-লক্ষ নেতাকর্মীসহ ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছিল।

বাণীর শেষাংশে মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন