দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিরতা কাটছেই না। দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে পেট্রোল পাম্পের লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে তেল। তাও কিছু পাম্পে মোটরসাইকেল চালকরা ফুল টাংকি লোড করতে পারছেন না। তাদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকার তেল।
চালকরা বলছেন ৫০০ টাকার তেল দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ দিন মোটরসাইকেল চলানো যাবে। এরপর আবারও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হবে। এতে তারা দিন দিন আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টায় রাজধানীর পরিবাগের পেট্রোল পাম্পে সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি রাস্তার অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। পাম্প থেকে একদিকের গাড়ির লাইন শাহবাগের মোড় ছাড়িয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় জরুরি বিভাগ পর্যন্ত চলে গেছে। অন্যদিকের লাইন পরীবাগ থেকে প্রায় হাতিরপুল পর্যন্ত চলে গেছে। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে তেল নিতে এসেও তাদের চোখে হতাশার ছাপ দেখা গেছে।
পাম্পে উপস্থিত একাধিক মোটরসাইকেলচালক জানান, তারা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তাদের মাত্র ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।
মোটরসাইকেল চালক মাহফুজ বলেন, ৪ ঘণ্টা পর ৫০০ টাকার তেল পাইলাম, কষ্টের কথা কারে বলমু। এতে করে আমাদের সময় যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। দুই দিন পর আবার এই লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়াতে হবে।
আরেকজন চালক জসিম বলেন, তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জন্য চলাচল করা কঠিন হয়ে যাবে।
রাইড শেয়ারিং অ্যাপে মোটরসাইকেল চালান ইমরান। তিনি বলেন, চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর ৫০০ টাকার তেল পাইলাম। কষ্টের কথা কারে বলমু। আমাগো গরীবের কষ্ট দেহার মতো কেউ নেই। দিনশেষে ভোগান্তি আমাগোরই।
এদিকে শাহবাগ, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট এলাকার প্রায় সব পাম্পই সন্ধ্যার পর বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।
