ব্রেক্সিট গণভোটের ১০ বছর পূর্তিতে প্রকাশিত এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক আবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এ যোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। শুধু একক বাজারে ফিরে যাওয়ার চেয়ে সরাসরি ইইউ সদস্যপদে ফেরার সমর্থন এখন বেশি দেখা যাচ্ছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বেস্ট ফর ব্রিটেন নামের একটি সংগঠন, যারা ব্রেক্সিট-পরবর্তী সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে কাজ করে। জরিপ অনুযায়ী, মোট ভোটারের ৫৩ শতাংশ পূর্ণভাবে ইইউ-এ ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
রাজনৈতিক দলভিত্তিক সমর্থনের চিত্রে দেখা যায়, লেবার পার্টির ৮৩ শতাংশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের ৮৪ শতাংশ এবং গ্রিন পার্টির ৮২ শতাংশ সমর্থক পুনরায় ইইউ সদস্যপদ চান। অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টির ৩৯ শতাংশ এবং রিফর্ম পার্টির ১৮ শতাংশ সমর্থকও এই মতের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রশ্নে লেবার পার্টির বর্তমান সতর্ক ও নীরব অবস্থান তাদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে একদিকে প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন কমতে পারে, অন্যদিকে ঐতিহ্যগত শ্রমিকশ্রেণিভিত্তিক এলাকাগুলোতেও প্রভাব পড়তে পারে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের ইউরোপ নীতিকে ৬১ শতাংশ ভোটার সমর্থন করলেও মাত্র ১৯ শতাংশ এ নীতিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছেন। ফলে জনমতের বড় একটি অংশ এখনো বিকল্প পথ খুঁজছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
গবেষকরা ছয়টি সম্ভাব্য নীতি পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ছিল বর্তমান সম্পর্ক বজায় রাখা, বরিস জনসনের চুক্তি চালু রাখা, আরও দূরে সরে যাওয়া, কাস্টমস ইউনিয়ন ও একক বাজারে যোগ দেওয়া এবং পূর্ণভাবে ইইউ-এ ফিরে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাস্টমস ইউনিয়ন বা একক বাজারে ফিরতে গেলে সার্বভৌমত্ব, আইন প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে নতুন করে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাজ্যকে অনেক নিয়ম মানতে হলেও সেসব নিয়ম তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা থাকবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন কার্টিস বলেন, ব্রেক্সিট ইস্যুতে লেবার পার্টির “নীরব কৌশল” দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নাও হতে পারে। কারণ ব্রেক্সিটপন্থী ভোটার হারানোর চেয়ে উদারপন্থী ভোটার হারানো তাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি জানান, লেবার ইতোমধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার রিফর্ম পার্টির কাছে হারিয়েছে, আর প্রায় চার ভাগের এক ভাগ ভোটার লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছে।
