আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বিশ্বের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ দেশে নতুন প্রধান কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছে মালয়েশিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের আগে নবনিযুক্ত এসব কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ।
বুধবার (১০ জুন) অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। নতুন রাষ্ট্রদূতরা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবেন না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মালয়েশিয়ার স্বার্থ, অবস্থান ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করবেন।
নবনিযুক্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রিয়া, নিউজিল্যান্ড, লাওস, ওমান, আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, তিমুর-লেস্তে, চিলি, লেবানন এবং উজবেকিস্তানে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবেন।
সাক্ষাৎকালে উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় কূটনীতির গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূতদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তিনি নবনিযুক্ত প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের পেশাগত জ্ঞান ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম হবেন, যা মালয়েশিয়ার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।
এ সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শান্তি, স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যগত ভূমিকা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সৌজন্য সাক্ষাতের শেষে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাঁদের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কর্মজীবনের সফলতা কামনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে মালয়েশিয়ার সুনাম ও মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ নিয়োগগুলো মালয়েশিয়ার সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতির অংশ। এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, ওশেনিয়া ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন কৌশলগত দেশে নতুন প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে দেশটি বৈশ্বিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের উদ্যোগ নিয়েছে।
