আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই হার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচে জয় মাত্র একটিতে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন হতাশাজনক সময় শেষ কবে দেখেছেন সমর্থকরা? সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় দুই ম্যাচের দুটিতেই হার। ব্যক্তিগত অর্জন বলতে একটি ফিফটি। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত সিরিজে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়—অর্থাৎ তিন দলের মধ্যে সবার নিচে। অথচ কথায় ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাস। মাঠের ক্রিকেটে দেখা মেলে অসহায়ত্বের।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের সম্মিলিত সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৬০ রান। আধুনিক ক্রিকেটে ওয়ানডেতে ৪০০ রান করেও যেখানে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই, সেখানে ১৬০ রান নিয়ে কতটাই-বা লড়াই করা সম্ভব? বাস্তবতা তাই আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা। তারপরও দলের পক্ষ থেকে শোনা যাচ্ছে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য। ভারপ্রাপ্ত ওয়ানডে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও টানলেন অতীত সাফল্যের প্রসঙ্গ। তার ভাষায়, ‘এই দল নিয়েই বড় বড় দলকে হারিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান—সব হোমে ছিল। এক-দুই ম্যাচ দিয়ে বলতে চাই না, দলের কী হলো। দল ভালো অবস্থায়ই আছে। কিছু জায়গা চোখের সামনে, সবাই দেখতে পাচ্ছে—ব্যাটিং ইউনিট। বাইরে খেললে খুব বাজে ব্যাটিং করছি। যে কারণে পুরো দল সংগ্রাম করছে। দেশে প্রত্যেক ম্যাচেই ব্যাটাররা ভালো করেছে।’
জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ হার ২-১ ব্যবধানে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে টানা দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের কাছে পরাজয়। প্রশ্ন তাই উঠছেই—সমস্যাটা কোথায়? কেন দেশের বাইরে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা? উত্তর খুঁজতে গিয়ে ক্রিকেটারদের বক্তব্যে উঠে আসছে মাইন্ডসেটের সমস্যা। তবে নিজেদের স্কিল নিয়ে সংশয় দেখছেন না তারা। কিন্তু সমস্যা যদি শুধু মানসিকতায় হয়, তাহলে দীর্ঘদিনেও তার সমাধান হচ্ছে না কেন? হৃদয়রা সেটা জানেন কি! এই ব্যাটার বলেন, ‘কেন খারাপ করছি, এত গভীরে চিন্তা করিনি। দুই সিরিজ আগেও আমরা হোমে ভালো খেলেছি। যে প্রশ্ন করেছেন, আমি একমত যে দেশের বাইরে ভালো খেলছি না। প্রায় দেড় বছর হয়ে গেছে এমন। বাইরের কন্ডিশন দ্রুত মানিয়ে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করা জরুরি। শুধু মুখে বললে হবে না। আমরা করে দেখাতে পারছি না। এটা আমাদের ব্যাটারদের ব্যর্থতা।’
কথার ফুলঝুরি দিয়ে হয়তো আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেওয়া যায়, কিন্তু ক্রিকেটের মাঠে তার প্রমাণ দিতে হয় পারফরম্যান্সে। বাংলাদেশের সমস্যা ঠিক সেখানেই। বড় টুর্নামেন্টের আগে প্রত্যাশা বাড়ে, শিরোপার স্বপ্নও সামনে আসে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাটিং বিপর্যয় যেন পিছু ছাড়ে না। অতীতেও এমন চিত্র দেখা গেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। সমস্যার জায়গাগুলো চিহ্নিত হলেও সেগুলো কাটিয়ে ওঠার কার্যকর প্রমাণ এখনো দিতে পারেনি দল। দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে পুরো ব্যাটিং ইউনিটের ধসে পড়া, কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে দলকে টেনে তোলার মতো ইনিংসের অভাব এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করতে না পারার বিষয়গুলোও সামনে এসেছে। হৃদয় নিজেও স্বীকার করেছেন, খারাপ পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে ব্যাটারদের। ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ। নিজেদের দর্শকদের সামনে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক ব্যাটিং ব্যর্থতা সেই স্বপ্নের পথেই বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এশিয়া কাপ কি ব্যর্থতা ঘোচানোর মঞ্চ হবে, নাকি ব্যাটিংয়ের পুরোনো সংকটই আবারও ডুবাবে বাংলাদেশকে—সেই উত্তরের অপেক্ষায়।
