নির্বাচনে যা দেখেছি, তা বলা বা ব্যাখ্যা করা কঠিন: মির্জা আব্বাস

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন মানুষের ভূমিকা ও আচরণে যে পরিবর্তন দেখেছেন, তা ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, আমরা কয়েক যুগ ধরে রাজনীতি করে যাচ্ছি। একেক সময়ে মানুষের রূপের যে পরিবর্তন হয়, তা আমরা দেখেছি। এখনো দেখছি। এবারের জাতীয় নির্বাচনেও যা দেখেছি, তা বলা বা ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্মরণসভায় প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘খোকা ছিলেন রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা। তিনি কম হাসতেন, কিন্তু তার কথাবার্তা ও আন্তরিকতা মানুষকে সহজেই কাছে টেনে নিত। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ও বড় মনের মানুষ ছিলেন।

শৈশব ও রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দা ছিলাম- আমি শাহজাহানপুরের, আর খোকা গোপীবাগের। কখন যে একে অপরের সঙ্গী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হয়ে গেলাম, বুঝতেই পারিনি। কমিশনার নির্বাচন করার সময় আমরা একসঙ্গে হয়ে গেলাম। হাঁটি হাঁটি পা পা করতে করতে এত বছর হয়ে গেল, আমাদের বয়স হয়ে গেছে- সেটা আমরা বুঝতে পারিনি। বোঝার আগেই অনেকেই আমার মাঝ থেকে চলে গেছে।’

খোকা জীবিত থাকাকালে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘খোকা জীবিত থাকার সময় অনেকে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কখনো খোকার সম্পর্কে আমার কাছে, আবার কখনো আমার সম্পর্কে খোকার কাছে কূটনামি করেছে। আসলে আমরা কিন্তু একসঙ্গে কথা বলতাম। কার কী ভূমিকা, সেটা বলতাম। কার ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নিয়ে আলাপ করতাম।’

খোকার সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে কখনো ফাটল ধরেনি বলে জানান মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, খোকা এবং আমার জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে যদি লিখতে বসি, তবে আস্ত একটি বই হয়ে যাবে। রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য কিংবা ঝগড়াও হয়েছে, দ্বন্দ্ব হয়েছে; কিন্তু কখনো ফ্যাসাদ হয়নি। রাজনীতির নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি। আজকে খোকা আমাদের মাঝে নেই। খোকা থাকলে হয়তো বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও অনেক ভালো কিছু হতে পারত।’

দোয়া মাহফিলে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এমপি, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন এমপি, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশার, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া ও সদস্য সচিব বদরুল আলম সবুজ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন