রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুটপাট: জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ ৬ দাবি এবি পার্টির

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

দলটির দাবি, হামলার ঘটনায় কারও রাজনৈতিক পরিচয়, পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়ে এসব দাবি জানান এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

এবি পার্টির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা; লুট হওয়া সরকারি টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী দ্রুত উদ্ধার; হামলার সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করা; জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম দ্রুত পুনর্বহাল করা।

বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা বলেন, রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুই শতাধিক ব্যক্তি রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাবে এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তা ঠেকাতে ব্যর্থ হবে-এটি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা নয়; রাষ্ট্রের আইন-প্রশাসনের সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি আঘাত।

নেতৃদ্বয় বলেন, প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নগদ অর্থ লুট করে। এ ছাড়া ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা।

এবি পার্টির নেতারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের জমি নিয়ে বৈধ দাবি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য আইন, আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। রাতের আঁধারে দলবল নিয়ে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

নির্বাচিত সরকারের আমলেও ‘মব কালচার’ বন্ধ না হওয়াকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তারা বলেন, সরকার যদি সত্যিই বলে থাকে দেশে মব কালচারের দিন শেষ, তাহলে মিরপুরের এই ঘটনায় তার বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চাই।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর