৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের উত্থান ও রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ

আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল
প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ এএম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঘটনাবহুল ও বহুল আলোচিত দিন। স্বাধীনতা-পরবর্তী অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র পরিচালনায় সংকট, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা এবং জাতীয় জীবনে অনিশ্চয়তার মধ্যে এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান, নেতৃত্বের বিকাশ এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও দেশ গঠনে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচনার দাবি রাখে।
৭ নভেম্বরের তাৎপর্য কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তার ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসার ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো, রাজনৈতিক দর্শন ও জাতীয় উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

৭ নভেম্বর ১৯৭৫: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে জিয়াউর রহমান:
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। এর মাত্র চার দিন পর, ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর এক বিদ্রোহ ও অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় তিনি মুক্ত হন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।
এই ঘটনায় সৈনিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। তবে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য ও অবস্থান ছিল। ফলে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় পরিচিত।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানকে বুঝতে হলে তাঁর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা , সামরিক নেতৃত্ব এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ৭ নভেম্বর শহীদ জিয়াকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করার ক্ষেত্রে একটি নির্ণায়ক ঘটনা ছিল।

রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ : জিয়াউর রহমান এমন এক সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বের কেন্দ্রে আসেন, যখন বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হচ্ছিল—
সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহ।
দুর্বল অর্থনীতি ও উৎপাদনব্যবস্থার সংকট।
খাদ্যনিরাপত্তা ও দারিদ্র্যের সমস্যা।
প্রশাসনিক দুর্বলতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি।
রাজনৈতিক বিভাজন ও জাতীয় অনিশ্চয়তা।
শহীদ জিয়ার শাসনামলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক কাঠামোকে সক্রিয় করা, সামরিক বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা সৃষ্টি করা। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় উৎপাদন, কর্মসংস্থান, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় ঐক্যের দর্শন:
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে জনগণকে রাষ্ট্র গঠনে সম্পৃক্ত করার ধারণা গুরুত্ব পায়। জাতীয় ঐক্য, আত্মনির্ভরশীলতা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল বহুদলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালুর উদ্যোগ। ১৯৭৫ সালের একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার অবসানের পর তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়।
১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হয়।এটিও ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য

কৃষি বিপ্লব ও খাদ্যনিরাপত্তা :
জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে ছিল:
খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি।
সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহ প্রদান।
উন্নত বীজ ও কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার।
কৃষকের উৎপাদনক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি।
উনার শাসনামলে ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনকে জাতীয় উন্নয়নের প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯ দফা কর্মসূচি :
রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান পরিবর্তনের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল:
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।
কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
নিরক্ষরতা দূরীকরণ।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন।
আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠন।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ।
সামাজিক ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।
১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি উন্নয়নকে শুধু সরকারি প্রশাসনের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে জনগণের অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ:
জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গ্রামকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
এ লক্ষ্যে তিনি গ্রাম সরকার, পল্লি উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং স্থানীয় স্বশাসনের ধারণা তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ :
দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে তিনি গণশিক্ষা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও তাঁর সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে না পারলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হবে না।
বেসরকারি খাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার :
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের জন্য তিনি বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দেন।
উনার শাসনামলে অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বেসরকারি উদ্যোগের সুযোগ বাড়ানো হয়। শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়।
এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে।

স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক :
জিয়াউর রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়কোচিত উদ্যোগ ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে অধিকতর বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ করা।
তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
তাঁর দূরদর্শী কূটনৈতিক চিন্তার একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হলো দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা। ১৯৮০ সালে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার একটি আঞ্চলিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সামনে আনেন। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় সার্ক (SAARC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অবদান।
যোগাযোগ, অবকাঠামো ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন :
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে তিনি সড়ক যোগাযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো, বিদ্যুতায়ন, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন।
শহীদ জিয়ার উন্নয়ন দর্শনে শহর ও গ্রামের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে জাতীয় উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক মূল্যায়ন :
একজন রাষ্ট্রনায়কের মূল্যায়ন শুধু তাঁর গৃহীত কর্মসূচির তালিকা দিয়ে হয় না; বরং তাঁর সময়ের সংকট, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করতে হয়।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। কৃষি উৎপাদন, গ্রামীণ উন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, উনার অবদান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

৭ নভেম্বরের চেতনা ও রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি :
৭ নভেম্বর ১৯৭৫ বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একটি দিন, যার রাজনৈতিক তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা রাষ্ট্রের পরবর্তী গতিপথে অপরিসীম । এই দিনকে কেন্দ্র করেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান নতুন মাত্রা লাভ করে।
জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরিচয় কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার, স্বাধীনতার ঘোষণাকারী সামরিক নেতা এবং পরবর্তী সময়ের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নির্মাতা।
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, ১৯ দফা কর্মসূচি, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা, বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন এবং সার্ক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ—এসব তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনার উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
ইতিহাসের শিক্ষা হলো, একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার রাজনৈতিক ক্ষমতায় নয়; বরং জনগণের ঐক্য, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও দেশ গঠনের উদ্যোগের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এখানেই—তিনি একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে উৎপাদন, আত্মনির্ভরশীলতা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, অর্জন ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক পর্যালোচনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক : আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল,
সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর