ব্রিটেনের লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়ে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি দলটির ৩৪৯ জন এমপির সমর্থন অর্জন করেছেন, যার মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভার যোগ্য সব সদস্যও রয়েছেন। ফলে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োজনীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করা আর সম্ভব নয়।
মেকারফিল্ডের নবনির্বাচিত এমপি বার্নহ্যাম সোমবার আরও ২৭ জন এমপির সমর্থন পান। এর ফলে তার মোট মনোনয়ন বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪৯–এ। বর্তমানে মাত্র ৫৪ জন এমপি এখনো তাকে সমর্থন জানাননি। এদের মধ্যে কিয়ার স্টারমার এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির (এনইসি) চেয়ারম্যান হওয়ায় মনোনয়ন দিতে না পারা শাবানা মাহমুদও রয়েছেন। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর পক্ষে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় ৮১টি মনোনয়ন সংগ্রহ করা আর সম্ভব নয়।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং আগামী সোমবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করবেন। এ লক্ষ্যে তিনি পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির (পিএলপি) সদস্যদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে সবাইকে তার নেতৃত্বের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার রাতে পিএলপির সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বার্নহ্যাম বলেন, তিনি লেবার আন্দোলনের ঐতিহ্য অনুসারে একটি ‘ব্রড চার্চ’ বা সর্বপক্ষের প্রতিনিধিত্বশীল মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। তার ভাষায়, আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভার নিয়োগে দলের সব মতাদর্শিক ধারার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে এবং অবদান, অভিজ্ঞতা ও অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দলীয় এমপিদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, এমন একটি কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে প্রত্যেককে মূল্যায়িত করা হবে এবং প্রত্যেকের কথা শুনা হবে। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে জবাবদিহিমূলক, দৃশ্যমান ও সহজপ্রাপ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। তার মতে, এমপি, স্থানীয় জনগণ, দলীয় নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভার মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরে বার্নহ্যাম জানান, তার সরকার দেশের প্রতিটি এলাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, স্থানীয় জনগণের হাতে আরও ক্ষমতা হস্তান্তর এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। তবে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং উত্তর ইংল্যান্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে দলের কিছু এমপির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, উত্তরাঞ্চলের আসনের এমপি বা তথাকথিত ‘ব্লু লেবার’ ঘরানার রাজনীতিবিদরাই তার নেতৃত্বে দ্রুত সুবিধা পেতে পারেন।
বক্তৃতার শুরুতে বার্নহ্যাম সাবেক রাজনীতিক অ্যান উইডিকম্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি উইডিকম্বের মৃত্যুর তদন্তে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারেরও প্রশংসা করেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে স্টারমার হিলসবরো আইন বাস্তবায়ন করেছেন। বার্নহ্যাম বলেন, ব্রিটেনের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের মানুষ লেবার পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চায়।
