সৌদিতে হুথি হামলা, কড়া বার্তা ইসলামাবাদের

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একইসঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলামাবাদের অবিচল সমর্থন ও সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, সৌদির ওপর চালানো এই ন্যক্কারজনক হামলা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করে তুলতে পারে। এই সংকটকালীন মুহূর্তে ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তান সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে এবং অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখতে যেকোনো আন্তরিক প্রচেষ্টাকে ইসলামাবাদ সব সময় সমর্থন দিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বিদ্যমান, যা ইসলামাবাদের আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিশেষ করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিয়াদে দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির মূল শর্তই ছিল—যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয়ের ওপর আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় গত সোমবার ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকেও সৌদির পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা রক্ষা, ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।

নিরাপত্তা পরিষদের ওই ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন সৌদিতে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কড়া সমালোচনা করে রিয়াদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই দেশটির সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে, যার প্রেক্ষিতে পরবর্তী বছর ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চললেও সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এবারের উত্তেজনার সূত্রপাত হয় যখন সোমবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দেশটির সরকারি বাহিনী হামলা চালায়। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের দাবি ছিল, তারা সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণ ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেয়। মূলত, সম্প্রতি প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান সফরে যাওয়া হুথি প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনতে বিমানটি পাঠানো হয়েছিল। এই বিমানবন্দর হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে তা প্রতিহত করে সৌদি বাহিনী। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে হুথি ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যকার এটিই সবচেয়ে বড় সংঘাতের রূপ নিয়েছে, যার ফলে ২০২২ সাল থেকে চলা শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর